বিলিতি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের রাজবাড়ি
প্রাচীন আমলে সুবিশাল একটি রাজবাড়ি নির্মাণ করেছিলেন জমিদার মহেন্দ্রনাথ গায়েন। সেকালে পাটের ব্যবসায় সুনাম অর্জন করেছিলেন তিনি। সে আমলে ইংরেজ বণিকদের সঙ্গেই এই ব্যবসা চলত। সেই সময় এই প্রান্তিক ও গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহেবদের নানা ব্যবসার প্রসার ছিল। স্থানীয় অনেকে বলে থাকেন,সেকালে বিলিতি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বজায় রেখে ইউরোপীয় দুর্গের আদলে এই রাজবাড়িটি তৈরি করেছিলেন জমিদার মহেন্দ্রনাথ। এককথায় এটি ঐতিহাসিক স্থাপত্য।
প্রথমেই বলে নেওয়া যাক, ব্রিটিশ আমলের এই রাজবাড়িতে এলে কী কী দেখতে পাবেন। প্রায় ৩০ একর জায়গা জুড়ে এই রাজবাড়ির পরিধি। এক পুষ্করিণী দেখতে পাবেন, যাতে রাজবাড়ির প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে। বড় একটি বাগান আপনার নজরে পড়বে। রাজবাড়ির দুর্গের মধ্যে প্রবেশ করলে নানা কারুকার্য নজরে পড়বে। ভিক্টোরিয়ান কারুকার্য যেমন রয়েছে তেমনি ইতালির কাচের তৈরি আসবাবও দেখতে পাবেন ।
স্থানীয় মানুষদের কাছ থেকে জানা যায়, বিভিন্ন ঋতুতে বিশেষ করে গরমকালে এই রাজবাড়িতে এসে ছুটি কাটাতেন ব্রিটিশ সাহেবরা। রাজবাড়ির মধ্যে নহবতখানা, অতিথিশালাও রয়েছে। শুনলে অবাক হবেন, এই রাজবাড়িতে আসার জন্য মার্টিন কোম্পানি আলাদা রেলস্টেশনও তৈরি করে। “গায়েন গার্ডেন” তাঁর নাম রাখা হয়। এই স্টেশনে ন্যারো গেজের ছোট্ট বাষ্পচালিত ট্রেন এসে থামত। সেই স্টেশনের অস্তিত্ব না থাকলেও সেই স্মৃতিচিহ্ন এখনও কিছু কিছু স্থানে রয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে আরও জানা যায়, ২০০৮ সালে নাগাদ এই রাজবাড়ি অধিগ্রহণ করা হয়। অনাথ মহিলাদের সরকারি হোম গড়ে উঠেছে। বাড়িটির কিছু অংশে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হলেও সম্পূর্ণভাবে হয়নি। এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটির নিদর্শনটিকে টিকিয়ে রাখতে প্রচেষ্টা সেভাবে নেই বলেও অভিযোগ।
এই রাজবাড়ি বা জমিদার বাড়িটিতে “সাহেব-বিবি-গোলাম”, “সূর্যতপা”,”সত্যান্বেষী”-সহ একাধিক সিনেমার শুটিং হয়েছে।
দেশি-বিদেশি একাধিক চলচ্চিত্র ও সিরিয়ালের শুটিং পর্ব হয়েছে। মহানায়ক উত্তমকুমার এই বাড়িটিতে এসেছিলেন শুট করতে। এই রাজবাড়ির প্রবেশ পথে শ্বেত পাথরের দুটি সিংহ মূর্তি ছিল। যা আলাদা করে চিহ্নিত করে জমিদার বাড়িটিকে।
জমিদার মহেন্দ্রনাথের উত্তরসূরিরা এই জমিদার বাড়িতে আসেন বলে জানা যায়।
জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্ৰমণপিপাসু মানুষ এখানে আসেন। কোথায় এই রাজবাড়ির অবস্থান সেটা প্রথমে জেনে নিন। উত্তর২৪ পরগনা জেলার ধান্যকুড়িয়ার জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ির কথাই বলছি। কীভাবে যাবেন এই গন্তব্যে সেই পথ-নির্দেশ জেনে নিন। বারাসাত থেকে টাকি রোড ধরে বসিরহাট যাওয়ার পথে এই রাজবাড়ি নজরে পড়বে। শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাসনাবাদ শাখার ট্রেন ধরে এই রাজবাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায়। (ছবি:সংগৃহীত)

